কুড়িয়ে আনা ‘বরই খেয়ে’ দুই বোনের মৃত্যু, আইসোলেশনে মা-বাবা

রাজশাহীতে কুড়িয়ে আনা বরই খেয়ে তিন দিনের ব্যবধানে দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই দুই শিশুর মা-বাবা। ওই দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করছেন চিকিৎসকরা।

মৃত দুই শিশু হলেন- দুই বছরের শিশু মুনতাহা মারিশা ও চার বছরের মুফতাউল মাশিয়া। তাদের বাবা রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের গণিত বিভাগের প্রভাষক মনজুর রহমান। তার স্ত্রী পলি খাতুন গৃহিণী। তাদের বাড়ি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার চুনিয়াপাড়া গ্রামে। তবে তারা রাজশাহীর চারঘাটের সারদায় ক্যাডেট কলেজের কোয়ার্টারেই থাকেন।

জানা যায়, হঠাৎ জ্বর আর বমির কারণে হাসপাতালে নেয়ার পথে মারিশা মারা যায়। মারিশার মৃত্যুর তৃতীয় দিনে একই লক্ষণ নিয়ে মাশিয়াও মারা যায়। মৃত্যুর আগে ও পরে দুই শিশুরই শরীরে ছোপ ছোপ কালো দাগ দেখা দিয়েছিল। এটি কোনো ভাইরাসের সংক্রমণে হতে পারে বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মারা যায় বড় মেয়ে মাশিয়া। আর বুধবার একই লক্ষণ নিয়ে মারা যায় ছোট মেয়ে মারিশা। নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ সন্দেহে দুই শিশুর বাবা–মাকে হাসপাতাল থেকে যেতে দেননি চিকিৎসকরা। তাদের রামেক হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। আর বিকেলে স্বজনদের মাধ্যমে মাশিয়ার মরদেহ বাড়িতে পাঠানো হয়। সন্ধ্যার পরে দুর্গাপুর উপজেলায় গ্রামের বাড়িতে মরদেহ দাফন করা হয়। বুধবার রাতে ছোট মেয়ে মারিশাকেও একই স্থানে দাফন করা হয়েছে।

শিশুদের মা পলি খাতুন জানান, গত মঙ্গলবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোয়ার্টারের কাজের বুয়া (গৃহকর্মী) কলেজ ক্যাম্পাসের গাছ থেকে বরই কুড়িয়ে এনে দুই মেয়েকে খেতে দিয়েছিলেন। না ধুয়েই ওই বরই খেয়েছিল মারিশা আর মাশিয়া। সেদিন তারা ভালোই ছিল। পরদিন বুধবার সকাল ১১টার দিকে ছোট মেয়ে মারিশা জ্বরে আক্রান্ত হয়। বারবার পানি খাচ্ছিল। দুপুরের পর শুরু হয় বমি। তখন মেয়েকে নিয়ে তারা একটি মাইক্রোবাসে করে রাজশাহীর সিএমএইচ হাসপাতালে নেন। পথে কাটাখালী এলাকায় মারা যায় মারিশা।