‘ তার কান্না দেখে আমার প্রথম মায়া লাগে আর সেই কান্নার কারণেই নজরে আসে অবন্তী’

সিয়াম ব্যক্তিগত জীবনে ২০১৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভালোবেসে শাম্মা রুশাফি অবন্তীকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনের অর্ধযুগ পার হলেও তাদের পরিচয় তারও ছয় বছর আগে। সেই পরিচয়ের গল্পটা বলার সময় সিয়াম জানান— অবন্তীকে যখন প্রথম দেখেন, তখন তিনি কাঁদছিলেন। মূলত, কান্নার কারণেই প্রথম সিয়ামের নজরে আসেন অবন্তী।

সিয়াম বলেন, ২০১১ সালের ৩ নভেম্বর অবন্তীদের উত্তরার বাড়ির ছাদে বন্ধুদের একটা আড্ডায় তাকে প্রথম দেখা। যেহেতু অবন্তীর বড় বোন (অপির্তা) আমার বন্ধু, তাই অন্য বন্ধুরাসহ সেদিন আমাদের আড্ডা হয়। ওই সময়ে ওর মা হজ করতে যান। প্রথম অবন্তীকে যখন দেখি, তখন সে কাঁদছিল। মা ভিডিও কলে কথা বলছিলেন, মেয়ে কাঁদছিল— এটা দেখে আমার কিছুটা অবাক লাগে। কান্নার কারণে প্রথম নজরে আসে।

ওই বছরের ঈদের দুই দিনের পরে অবন্তীর বাড়িতে সিয়াম ও তার বন্ধুদের আড্ডা হয়। সেদিন সব বন্ধুরা মিলে বাজার করে নিয়ে যান ওদের বাসায়। সবাই মিলে রান্নাবান্না ও খাওয়া দাওয়া করেন। চলে আড্ডা। তখনও সিয়ামকে ভাইয়া বলেই ডাকতেন অবন্তী।

সেই ঈদের স্মৃতিচারণ করে অবন্তী জানান, ঈদের দুই দিন পর এসে ওরা সবাই রান্নাবান্না করে। আমিও সিয়ামকে বলেছি ভাইয়া, আপনাকে চিকেন দিই? খিচুড়ি দিই? পরের বছর ২০১২ সালের জানুয়ারিতে একটা পিকনিকে আবারও দেখা হয় আমাদের।

তখনও মনের লেনদেন হয়নি অবন্তী-সিয়ামের। এর কিছুদিন পর আরেক বন্ধুর ছাদে ফের দেখা হয় তাদের। সেদিন সব আড্ডা শেষে দুজনের একটা ছবি তোলা হয়েছিল। অবন্তীর বোনই চেয়েছিলেন ছবিটা তুলতে। কারণ, একটা ঘটনায় দুজনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। অর্পিতা চাইছিলেন না, এটা আরও দীর্ঘ হোক। তাই ছবিটি তুলেছিলেন। সিয়াম আজও ছবিটা যত্ন করে রেখে দিয়েছেন।

একসময় দুজনের ফোন নম্বর আদান-প্রদান হয়। দুজনের সম্পর্ক ভালোবাসায় রূপ নেয়। তৈরি হয় নির্ভরতা। তবে অবন্তী-সিয়ামের ভালোবাসায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হয় যখন পড়াশোনার জন্য দেশের বাইরে চলে যান এই অভিনেতা।

এ প্রসঙ্গে সিয়াম বলেন, সম্পর্কটা কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে যায় যখন আমি পড়াশোনার জন্য লন্ডনে চলে যাই। তবে সেই চ্যালেঞ্জ অবন্তীর কারণে খুব চমৎকারভাবে উতরে যাই।

মা-বাবার একমাত্র সন্তান সিয়াম যেদিন পড়াশোনার জন্য দেশ ছাড়ছেন, সেদিন বিমানবন্দরে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। মা-বাবার পাশাপাশি সেদিন অবন্তীও কেঁদেছিলেন।

সিয়াম বলেন, আমি চলে যাওয়ার পর প্রতি সপ্তাহে আমার বাসায় গিয়ে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করত অবন্তী। নিজের মা-বাবার মতো ট্রিট করত। আমার তো ভাইবোন নেই। তখন বিষয়গুলো আরও ভাবাত। ধীরে ধীরে ওর প্রতি আমার ভালোবাসা আরও বেশি বাড়তে থাকে। একটা সময় তো আমরা বিয়ে করলাম। সেই বিয়ের ছয় বছর চলছে।