সমস্যার কারণে ছাড়তে হয়েছিল বাড়ি, কঠিন সংগ্রামের পর আজ তিনি দেশের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার পাইলট

সন্তানের ভালোর জন্য অনেক কিছু করে থাকেন বাবা-মা। কিন্তু সব সময় যে তারা সন্তানের ভালোই চান, এমন না। বহুবার দেখা যায় তারা নিজেদের ভালোর জন্য বা নিজেদের সোশ্যাল স্ট্যাটাস বাড়ানোর জন্য লোক দেখিয়ে সন্তানের জন্য অনেক কিছু করেন। কিন্তু সেইসব তাদের সন্তান চায় কিনা? আদতে সে কী চায়? তা জানার প্রয়োজন বোধ করেন না। মনে করা হয় সন্তান খারাপ হলেও বাবা-মা কোনদিন খারাপ হয় না। কিন্তু এটি পুরোপুরি সত্য নয়। আজ এমনই এক দৃষ্টান্ত আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি আমরা।

জন্মের পর যখন তারা জানতে পারেন তাদের সন্তান একজন কিন্নর, তখন সেই মুহূর্ত থেকেই তারা নিজেদের সন্তান কে ত্যাগ করেন। আজ সেই সন্তান নিজের প্রচেষ্টায় সাফল্য অর্জন করেছে। গোটা দেশের কাছে আজ সে গর্বের। তার নাম হলো অ্যাডাম হ্যারি। দেশের সর্বপ্রথম ট্রান্সজেন্ডার পাইলট। নিজের দক্ষতার জোরে আজ এই পরিচয় তার হয়েছে।

অনেক বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হলেও কখনো থেমে থাকেনি সে। তার নিজের বাবা মা-ই যখন তাকে দূরে সরিয়ে দেয়, সেদিনই সে শপথ করেছিল জীবনে কিছু করে দেখানোর। 2017 সালে প্রাইভেট পাইলট লাইসেন্সের পরীক্ষা দেয় অ্যাডাম। পড়াশোনার খরচ চালাতে দোকানে কাজ করতে হতো তাকে। বহুবার আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে পড়তে হয়েছিল তাকে।

এই প্রসঙ্গে সে বলেছে “একটা সময় আমি যখন একাকী থাকতাম আমাকে তখন সমাজ ঠিক চোখে দেখত না। এমনকি নিজের পরিচয় গোপন রাখতাম। সেই দিন গুলো আজও আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মত।” নিজের পাইলট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে সামাজিক বিচার বিভাগে আর্থিক সাহায্য চেয়ে ছিল সে। কেরালার বিচার বিভাগ থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়েছিল। তার পরিশ্রম ও কিছু করে দেখানোর অদম্য ইচ্ছাকে সম্মান করে কেরালা সরকার তাকে 22.4 লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করেছিল।